১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যারা হাত মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, তারা আজ গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে যারা সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল; তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল খান বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে কি এদেশের মানুষ আপস করতে পারে? পারে না। এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে তো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তারা ওই কাজ করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা করতে দিতে পারি না। আজকে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেই চেতনাকে সামনে আনতে হবে। আমরা এদেশের মানুষ লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করে ৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার; সেই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া। এদেশের সর্বনাশ হওয়া। কারণ এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার।’
এই সরকার তাড়াতাড়ি নির্বাচনটা করবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার- প্রফেসর ইউনূস অতি দ্রুত আর কোনো কাল বিলম্ব না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবেন। দেশে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন।’
এ সময় কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।


