Google search engine
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্যকারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

কয়লা-সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াচ্ছিল ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কিন্তু হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় দেশে নতুন করে লোডশেডিং বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই ত্রুটির ঘটনা ঘটে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কমানো হয়েছিল। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় গতকাল রাতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি শীতল হতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে, এরপর মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পিডিবির চুক্তি হয় ২০১৭ সালে। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট দিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র থেকে চাহিদার ভিত্তিতে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহেরও রেকর্ড রয়েছে। তবে বর্তমানে শুধু আদানির কেন্দ্রই নয়, দেশের ভেতরের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও জ্বালানি-সংকটে ধুঁকছে।

পিডিবি সূত্র জানায়, দুই মাসের বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি কয়লা-স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে পটুয়াখালীর পায়রা এবং বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

গতকাল বেলা তিনটায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়। এমনকি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ শুক্রবার সকালে সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় কয়লা, গ্যাস ও তেলের অভাবে দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কয়েকটি নিয়মিত বন্ধ থাকছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

spot_img
spot_img
  • সর্বশেষ
  • পঠিত

এই বিভাগের আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম

সারাদেশ

বিশেষ-সংবাদ

বিনোদন