দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও পাবেন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুবিধা। আজ মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কিন্তু সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এখন বলতে পারছি না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত আসবে।’
এ রকম পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে আজ সকালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন বিষয়টি জেনে জানাবেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, শতভাগ নিশ্চিত যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য আর্থিক অনুদান দেয় সরকার, যা এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) নামে পরিচিত। এসব শিক্ষক-কর্মচারী মূল বেতনের শতভাগ অংশ পান। এর সঙ্গে চিকিৎসা ভাতাসহ কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মাসে এক হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পেয়ে আসছিলেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের নতুন কাঠামোয় এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এখন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন পৌনে ২ লাখের মতো এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় বেশি, তারা এমপিওর বাইরেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের টাকা দেয়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা থাকে না।
এখন নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন ও বাড়িভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্তর এবং বিষয়ভেদে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে ভিন্নতা আছে। এখন যিনি যে গ্রেডে চাকরি করছেন, সে অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতা একযোগে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে প্রথম ছয় মাসে ৫০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।
এর মানে হলো প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বেতন বাড়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে নতুন করে ২৫ শতাংশসহ মোট ৭৫ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন পাবেন এই গ্রেডের চাকরিজীবীরা। আর শেষ ধাপে আরও ২৫ শতাংশ যোগ হলে তখন বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ পাবেন তাঁরা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল থেকে বেতন ও ভাতা একযোগে পাবেন।
অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে গত ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে।


